মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

বধ্য ভূমি

১৯৭১সালে মুক্তিযোদ্ধারা নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অনেক রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন করেন। রায়পুর উপজেলার মধ্যে এমনই শত শত শহীদদের কবর দিয়ে তৈরী বধ্য ভূমি আজোও মুখ বুঝে নিরবে কাঁধে। পাকবাহিনীর সদস্যরা রাজাকারদের সহযোগীতায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ধর্ষন, লুটপাট ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। প্রত্যেক ঘরে ঘরে আক্রমন চালিয়ে বাড়ির মহিলা সদস্যদের রেখে পুরুষদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পুরুষদের পাশাপাশি ৫ বছরের ছেলে ও রক্ষা পায়নী। পাকবাহিনীর সদস্যরা পুরুষদের চোখ বেধেঁ মেঘনা সহ বিভিন্ন নদীর পাড়ে লাইন ধরে দাড়িয়ে নির্মমভাবে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে। দুর দুরান্ত থেকে পর্যটকরা আসে এই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম দেখতে। বিধবাদের মুখে মুক্তিযোদ্ধে পুরুষদের কিভাবে হত্যার কাহিনী শুনতে। এমনই নির্মমহত্যার শিকার হয়েছে অনেক টগ বগে যুবক। আলবদর আলশাম, রাজাকাররা বাড়ি থেকে ধরে এনে চোখ বেধেঁ বার বার পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলতে বললেও তারা মুখ দিয়ে বার বার জয় বাংলা, জয় বাংলা বলতে থাকে। অনেকে তখন জানায় আমাদেরকে মেরে ফেললেও জয় বাংলা জয় বাংলা ছাড়া কোন কথায় বলাতে পারবেন না। পাকবাহিনীর সদস্যরা অনেক চেষ্টা করেও যখন পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলাতে পারলোনা তখন ব্রাশ ফায়ার করে তাদের মৃত্যু নিঃশ্চিত করে সেখান থেকে চলে যায়। এমনই শত শত শহীদের কবর বধ্য ভূমিতে রয়েছে।
স্বাধীনতার মাস আসলে শুধু বধ্য ভূমিটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয় তাছাড়া বাকি মাসগুলোতে বধ্য ভূমির কথা সবাই ভূলে যায়। এখন ও রায়পুর উপজেলার গ্রামের শত শত বিধবা মহিলারা এই বধ্য ভূমিতে গিয়ে আত্মীয় স্বজনদের জণ্য দোয়া কামনা করে নিরব চোখের পানি ঝরায়।স্বামী হারানো, সন্তান হারানো, প্রিয় আপনজন হারানোর ব্যথা এখনও তারা বুকে বেধেঁ বেচে আছে। এখনও অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জন হারানোর ব্যথা বুকে নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। পাকবাহিনীরা নিরপরাধ ব্যক্তিদের জয় বাংলা বলার কারনে ব্রাশ ফায়ার করে মেরে ফেলেছে। অনেক প্রানের বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধের মাধ্যমেদেশ স্বাধীন করেছে। আজ স্বাধীনতার ৪৩ বছর প্রায় হতে চলেছে তবুও বাংলার মানুষ স্বাধীনতার সাধ এখন ও পায়নী।
দেশ স্বাধীন হলেও কিছু রাজাকার,  যুদ্ধাপরাধী, আলশাম, আলবদর থেকে গেছে এই স্বাধীন বাংলার মাটিতে। ফলে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে কষ্টের স্বীকার হয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করলেও তারা তেমন কোন সুযোগ সুবিধা পাননি। পেয়েছেন শুধু নয়ন ভরাজল, লাঞ্ছনা-বঞ্চনা। অপর দিকে রাজাকাররা শুধু এই দেশের সম্মান নষ্ট করেনি, করেছে আরও অনেক বড় অপরাধ। পাকবাহিনীর হাতে তুলেদিয়েছে মা-বোনদের। করেছে কতো নির্যাতন ও অমানবিক কর্মকান্ড। ফুলের মতো নিষ্পাপ পবিত্র শিশুদের মায়ের বুক থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পশুরমতো হত্যা করেছে। লাখ লাখ তাজা প্রানকে মাটিতে পুতেঁ রেখেছে। শত শত ঘর-বাড়ি আগুন দিয়ে ছারখার করে দিয়েছে। এসব অমানবিক কর্মকান্ডের পিছনে সহযোগীতা করেছে এদেশের কিছু মুখোস ধারী শয়তানরা। আজ তাদেরকে আমরা এক নামে চিনি জানি। তারা হলো রাজাকার-আলবদর ও আলসাম ।আজ যুদ্ধ নেই ঠিকই কিন্তু এরা এখনো ধর্মের দোহাই দিয়ে চলছে রাজাকারের নিল নকশা।
তাদের সেই স্বার্থ তারা এখনো বাস্তবায়ন করতে চায় । আজ তারা একদিকে নামি দামি পোশাক পরে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়, অন্যদিকে গড়েছে ধন-সম্পদের পাহাড়। বীর মুক্তিযোদ্ধারা পঙ্গু অসহায় অবস্থায় অনেকেই ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন যাপন করছেন। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন, আর কেউ বা গুনছেন মৃত্যুর প্রহর। তাই এদেশও জাতীর কাছে আমার একটিই প্রশ্ন,  এদেশটাকি সত্যিই সার্বভৌমত্বের দেশ?  মুক্তিযোদ্ধারা কবে পাবে লাল সবুজ পতাকার সম্মান, কবে পাবে সুখি, স্বাধীন ও শক্র মুক্ত দেশ। তারা আজ বড় ইঅভিমানি। তারা চিৎকার দিয়ে বলতে চেয়েও বলতে পারেননা‘ এটি আমার স্বাধীন সোনার বাংলাদেশ। ‘তাদের বুকে রভি তরে যে যন্ত্রনা- বেদনার কষ্ট লুকিয়ে আছে, তা থেকে তারা মুক্তি চায়। তারা চিৎকার দিয়ে বলতে চাই এদেশ আমাদের মুক্তিযোদ্ধার দেশ, কোন রাজাকারের দেশ নয়। এটি তাদের প্রাপ্য তাদের অধিকার। তারা এদেশে কোন সন্ত্রাস, হানাহানি, শক্র দেখতে চায়না। তারা চায় একটি সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।­